কুহেলী - এক সতী বিধবার অজানা গন্তব্য (সিরিজ) - অধ্যায় ৯

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-75067-post-6298875.html#pid6298875

🕰️ Posted on Fri Aug 28 2026 by ✍️ হৃদয় (Profile)

🏷️ Tags:
📖 780 words / 3 min read

(9) সকাল আটটা বেজে গেছে।‌ কুহেলী বাইরে এসে দেখে বাগানে একটা চেয়ার নিয়ে রবি বসে আছে, আর তার সঙ্গে পাশের চেয়ারে আরেকজন কে যেন! রবি দূর থেকে কুহেলীকে আসতে দেখে হা করে তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল। তার দেখাদেখি পাশের ভদ্রলোকটিও এবার তাকায় কুহেলীর দিকে। কুহেলী কাছে যেতেই তারা উঠে দাঁড়ায়। রবি পরিচয় করিয়ে দেয় দুজনকে। কুহেলী জানতে পারে সেই ভদ্রলোকটির নাম অবিনাশ ব্যানার্জি। ইনিও বাঙালি। বর্ধমানে বাড়ি। তিনি একজন ভেটেরিনারি ডাক্তার। এই ফার্মে থাকা প্রায় এক হাজার ছাগলের চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত কাজ তিনিই একা সামলান। এখানে তার জন্যেও একটা থাকার ঘরের ব্যবস্থা আছে।  অবিনাশের বয়স তিরিশের মতো, অবিবাহিত, গায়ের রং সামান্য চাপা, দেখতে লম্বা, সাধারণ ছাপোষা মধ্যবিত্ত চেহারা। কিন্তু মুখে এমন একটা ভাব, যা যেকোনো মানুষের মন কেড়ে নিতে পারে। যখন তিনি শুনলেন এখানকার নতুন ম্যানেজার একজন বাঙালী, তখন থেকেই তার সঙ্গে আলাপের জন্য তিনি বসে আছেন। তার ব্যবহার বড়ো মধুর। তিনি আজ পাঁচ বছর এখানে কাজ করছেন। তাই কথার টানে হিন্দি ভাব চলে আসছে মাঝে মাঝে কুহেলীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে। কুহেলীকে যখন তিনি প্রথমবার আজ হলুদ শাড়িতে দেখেন, তার মনের গভীরে কেমন এক অনুভূতির সঞ্চার হল, তা সে টেরও পেলো না। এদিকে কুহেলী এই ডাক্তারের সঙ্গে আলাপের পর থেকে মনের মধ্যে শান্তনুর প্রতি থাকা রাগের ভাবটা কিছুটা থিতিয়ে পড়তে লাগলো। সে বুঝতে পারলো না, কিন্তু তা ঘটতে লাগলো। অবিনাশের মুখে এমন এক সততা ও ভদ্রতার মিশ্রিত ছাপ লেগে রয়েছে, কুহেলীর মনে হলো, একে চোখ বন্ধ করেই বিশ্বাস করা যায়। বিশেষ করে যেটা সবথেকে বেশি আকর্ষণ করলো তাকে, তা হলো অবিনাশের মুখ চোখে এক সাবলীল সারল্যের ভাব আনাচে কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে। এই সারল্য এই দুনিয়ায় বড়ো বিরল। এই জটিল জগতের লোভী দুশ্চরিত্র মানুষেরা যেখানে ক্ষমতার দম্ভে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করে চলেছে, সেই জায়গায় অবিনাশের মতো একজন সামান্য ডাক্তারকে যে এই দুনিয়া এক লহমায় গ্রাস করে নিতে পারে, তা বুঝতে পারে কুহেলী। কুহেলী এক ফাঁকে রবিকে ইশারা করে একটু পাশে সরে আসতে বলে তার সঙ্গে গোপনে কিছু কথা বলবে বলে। অবিনাশ ভদ্রতার খাতিরে একটু পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। রবি কে নিয়ে কুহেলী একটা বড় বকুল গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়ালো। তাদের কথোপকথন খানিকটা এরকম...। রবি, তোমার স্যার কোথায়? জানিনা ম্যাডাম, গাড়িটা নিয়ে বেরোলো, আমায় বললো আপনাকে সব কিছু দেখিয়ে দিতে। আর এই টাকাটা আপনায় রাখতে বললো এই ফার্ম ও আপনার নিজের কাজে লাগতে পারে বলে।  বলে রবি পঞ্চাশ হাজার টাকার তিনটে বান্ডিল বের করে কুহেলীর হাতে দিল। কুহেলী তা নিয়ে নিজের ব্যাগে রাখল। এই টাকাতেও তার মনকে কেনা যাবে না। তার রাগ তো কমলোই না, আরও তীব্র হলো। এবার একটু গম্ভীর গলায় প্রশ্ন শুরু করলো রবিকে। আচ্ছা কাল রাতে তোমার স্যার ঘুমিয়েছিলেন গাড়িতে? আমি আসলে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, তাই জানিনা। এতদূর জার্নি করে এসেছেন, না ঘুমোলে শরীর খারাপ করতে পারে। রবি এই প্রশ্নে থতমত খায়। কি বলবে আর কি বলবে না, সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে তার। ম্যাডাম তাকে ঠিক কি জিগ্যেস করতে চাইছে, তার একটু আধটু আভাসও সে পাচ্ছে। তবে কি ম্যাডাম সব জেনে গেছে! কি হলো রবি? চুপ কেন? কাল রাতে ঘুম হয়নি বলেই কি তোমার স্যার বাড়ি চলে গেলেন ঘুমোনোর জন্য? না, আসলে তিনি কোথায় গেছেন আমি জানি না। কথা ঘোরাও না রবি, যেটা বলছি তার উত্তর দাও, কাল রাতে তিনি ঘুমোচ্ছিলেন...নাকি....! রবির পা কাঁপতে শুরু করেছে এবার। সে জানে না এর উত্তর কি হওয়া উচিত বা তার কি দেওয়া উচিত! সে শান্তনুর মতো বুদ্ধি ধরে না। সে সামান্য গাড়ি চালায় মাত্র। টাকার জন্য সংসার চালানোর জন্য তাকে তার মালিকের কথা শুনেই চলতে হয়। সে কোনোক্রমে, আমি দেখি ওদিকটায় রামেশ্বর ঘুম থেকে উঠল কিনা ম্যাডাম...। বলে রবি সেখান থেকে চলে গেল দ্রুতপদে। কুহেলীর মনে এই সন্দেহ আরও বেশি করে দানা বাঁধতে শুরু করলো। তবে কি সত্যিই এটা শান্তনুর কাজ? মনে মনে সেই বকুলতলায় এই চিন্তায় করছে, এমনসময় পাশে এসে দাঁড়ালো অবিনাশ। তার মুখে সরল কৌতূহল। সে জিগ্যেস করলো, কিছু হয়েছে? যদি কিছু মনে না করেন, আমায় বলতে পারেন। আমি দেখি কি করা যায়! নাহ্, এর সমাধান তোমায় দিয়ে হবেনা অবিনাশ। তুমি যে বড্ড সরল! এই জগতের প্যাঁচে একবার পড়লে তারা তোমায় গিলে ফেলবে যে! মনে মনে ভাবতে থাকে কুহেলী। মুখে একটু মুচকি হেসে বলে, তেমন কিছু নয়। আমি শান্তনুবাবু কখন ফিরবেন সেই ব্যাপারেই জানতে চাইছিলাম, কিন্তু ও তো কিছু জানেই না। ও এই কথা! শান্তনুবাবু তো এখন কিছুদিনের জন্য ফিরবেন না। তিনি আজই যাচ্ছেন, জার্মানি, ঘুরতে। দুমাস পরে ফিরবেন। মানে? হ্যাঁ। তিনি আপনায় কিছু বলেননি? নাহ্, মানে বলেছিলেন, কিন্তু কোথায় যাচ্ছেন বলেননি। কুহেলী কথাটা সম্পূর্ণ চাপা দিয়ে দিলো। অবিনাশ বললো, তাইতো তিনি আমায় দায়িত্ব দিয়ে গেছেন আপনাকে সব কাজের ব্যাপারে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। আচ্ছা। বলে কুহেলী মনে মনেই কত কথা ভাবতে থাকে।  এই ছিল তার মতলব! এই কুকীর্তি করে দুমাস দূরে থাকলে আমার ভেতরের ঘৃণা কমে যাবে তার প্রতি? এই বুদ্ধি তার! নাহ্ শান্তনু। তুমি ভুল। আমি এই দুমাস অপেক্ষা করে থাকবো তোমার ফেরার জন্য। যেদিন তুমি ফিরবে সেদিনই তোমায় আমি উচিত শিক্ষা দেবো আর এই স্থান পরিত্যাগ করবো। ততদিন আমি এখানেই রইলাম। তোমার চিন্তা নেই! (চলবে)