ছায়ার আড়ালে আগুন-Erotic Thriller [Part-4: অন্তিম যুদ্ধ] - অধ্যায় ৮৪
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৪: অন্তিম যুদ্ধ)
চতুরশীতি পরিচ্ছেদ: ল্যাব
অংশুমান সরাসরি ফরেন্সিক ল্যাবে গেলেন।
জিপ থামিয়ে তিনি দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উঠলেন। হাতে সেই ছোট প্লাস্টিকের ব্যাগ। ভেতরে মেটাল টিউব। ব্যাগটা শক্ত করে ধরে রেখেছেন। ল্যাবের দরজায় টোকা দিয়ে ভেতরে ঢুকলেন। সাদা দেয়াল, ঠান্ডা ফ্লুরোসেন্ট আলো, রাসায়নিকের হালকা তীব্র গন্ধ। কয়েকজন টেকনিশিয়ান মাস্ক পরে কাজ করছে। অংশুমানের পদশব্দে কয়েকজন মাথা তুললেন।
ল্যাব সুপারিনটেনডেন্ট ডা. অরূপ ব্যানার্জি তাকে দেখে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন। চশমার ওপর দিয়ে তাকালেন।
“বড়বাবু? এ সময় এখানে… কী হয়েছে?”
অংশুমান ব্যাগটা টেবিলের ওপর রাখলেন। গলা শুকনো। “এই টিউবটা দেখুন"। দ্রুত দেখুন।”
ডা. ব্যানার্জি একটু থমকে গেলেন। তারপর গ্লাভস পরে ব্যাগটা খুললেন। টিউবটা সাবধানে বের করলেন। আঙুল দিয়ে ঘুরিয়ে আলোতে দেখলেন। ছোট্ট ধাতব নল। গায়ে কিছু অস্পষ্ট মার্কিং—ছোট ছোট অক্ষর, আংশিক মুছে যাওয়া। তিনি নাকের কাছে নিয়ে এসে আস্তে শুঁকলেন, তারপর সরিয়ে রাখলেন।
“এটা সাধারণ কিছু মনে হচ্ছে না,” তিনি বললেন। “একটু সময় দিন।”
অংশুমান পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন। হাত মুঠো করা। চোখ টিউবটার দিকে। ডা. ব্যানার্জি টিউবটা নিয়ে অন্য টেবিলে গেলেন। মাইক্রোস্কোপ, ছোট যন্ত্রপাতি, রিএজেন্ট। তিনি চুপচাপ কাজ করতে লাগলেন। মাঝে মাঝে নোট নিচ্ছেন। অংশুমান একবার জানালার দিকে তাকালেন। বাইরে রোদ। ভেতরে শুধু যন্ত্রের মৃদু শব্দ আর তার নিজের শ্বাস।
প্রায় এক ঘণ্টা পর ডা. ব্যানার্জি মাথা তুললেন। চশমা সরিয়ে চোখ মুছলেন। তার মুখে একটা গম্ভীর ভাব।
“বড়বাবু, এটা কোনো সাধারণ জিনিস নয়,” তিনি বললেন। গলায় সতর্ক সুর। “এই ধরনের কম্পাউন্ড কীটনাশক তৈরিতে অল্প পরিমাণে ব্যবহার হয়। শিল্পক্ষেত্রে সীমিত অথোরাইজেশন থাকে। সাধারণ মানুষের হাতে এমনভাবে পাওয়ার কথা নয়। এটা নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক।”
অংশুমান এগিয়ে এলেন। টেবিলের ওপর হাত রাখলেন। “শহরে কে রাখে? কে বিক্রি করতে পারে?”
ডা. ব্যানার্জি একটা ফাইল খুললেন। কম্পিউটারের স্ক্রিনে কিছু খুঁজলেন। তারপর আবার ফাইলের পাতা ওলটালেন। কয়েক মুহূর্ত পর বললেন, “এই শহরে অথোরাইজড ডিলার মাত্র একটি। রায় কেমিক্যালস। ওদের লাইসেন্স আছে সীমিত পরিমাণে এই ধরনের রাসায়নিক আমদানি ও বিক্রির। বাকিরা অবৈধ। ওদের রেকর্ডে থাকার কথা।”
অংশুমান চুপ করে রইলেন। চোখে একটা শীতল জ্বালা। তিনি দাঁত চেপে ধরলেন।
“নিশ্চিত?” তিনি জিজ্ঞেস করলেন। গলা কম।
“যতদূর প্রাথমিক পরীক্ষায় বোঝা যাচ্ছে, হ্যাঁ,” ডা. ব্যানার্জি বললেন। “পুরো রিপোর্ট আসতে আরও সময় লাগবে—কয়েকদিন। কিন্তু এই মুহূর্তে রায় কেমিক্যালসের দিকেই দেখতে হবে। ওদের স্টক, বিক্রির রেকর্ড, কে নিল—সব।”
অংশুমান টিউবটা আবার ব্যাগে ভরে শক্ত করে হাতে নিলেন। “রিপোর্টটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পাঠাবেন। আমাকে এখন যেতে হবে।”
ডা. ব্যানার্জি মাথা নাড়লেন। চোখে উদ্বেগ। “সাবধানে থাকবেন, বড়বাবু। এ ধরনের জিনিস সহজে হাতে আসে না। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করে থাকে…”
অংশুমান আর কিছু না শুনে ল্যাব থেকে বেরিয়ে গেলেন। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ পেছনে রয়ে গেল। বাইরে রোদ চোখে লাগল। তিনি জিপের দিকে এগোলেন। চাবি হাতে নিয়ে ইঞ্জিন স্টার্ট দিলেন।
মাথায় একটাই নাম ঘুরছে—রায় কেমিক্যালস।