ছায়ার আড়ালে আগুন-Erotic Thriller [Part-4: অন্তিম যুদ্ধ] - অধ্যায় ৮৩
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৪: অন্তিম যুদ্ধ)
ত্রাশীতি পরিচ্ছেদ: ঘটনাস্থল
অংশুমান জিপ থামিয়ে নামলেন।
নদীর ধারের সেই নির্জন জায়গা এখন লোকে ভরে গেছে। সকালের আলোয় সবকিছু পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। পুলিশের হলুদ টেপ দিয়ে এলাকা ঘেরা। কালো ল্যান্ড রোভার ডিফেন্ডার দাঁড়িয়ে আছে—দরজা খোলা, জানালায় এখনো কুয়াশার দাগ। চারপাশে সাদা পোশাকের ফরেন্সিক টিম কাজ করছে। হাতে গ্লাভস, ক্যামেরা, ছোট ছোট প্লাস্টিকের ব্যাগ। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ বারবার জ্বলছে।
লোকজন দূরে দাঁড়িয়ে। কেউ সাইকেল নিয়ে এসেছে, কেউ মোটরসাইকেল। কেউ ফোন তুলে ভিডিও ধরছে। ফিসফিসানি চলছে। অংশুমান এগোতেই কয়েকজনের দৃষ্টি তার দিকে গেল। ফিসফিসানি আরও জোরালো হল।
“ওই যে… ওনার ছেলে এসেছে…”
“মায়ের সঙ্গেই তো ওই অবস্থায়…”
“দেখ, কেমন মুখ করে এল…”
“পুলিশ তো ওরই…”
কেউ কেউ মুচকি হাসি হাসছে। কেউ মাথা নাড়ছে। কেউ অন্যের কানে কিছু বলছে। অংশুমান কিছু শুনলেন না। তিনি সোজা গাড়ির দিকে এগোলেন। এক পুলিশ অফিসার তাকে আটকালেন। হাত তুলে বাধা দিলেন।
“স্যার, ভিতরে যাওয়া যাবে না। তদন্ত চলছে। সাধারণ লোকজন রাখা হচ্ছে না।”
অংশুমান পরিচয় দিলেন। থানার বড়বাবু। অফিসার একটু থমকে গেলেন। তারপর পিছিয়ে গেলেন। অংশুমান গাড়ির কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। ভেতরটা দেখা যাচ্ছে না—সাদা চাদর দিয়ে ঢাকা। দুটো দেহের আদল বোঝা যাচ্ছে। তিনি আর এগোলেন না। শুধু দাঁড়িয়ে রইলেন। চোখ গাড়ির দিকে। হাত মুঠো করা।
হঠাৎ এক পুলিশকর্মী এগিয়ে এসে তার হাতে একটা ছোট্ট জিনিস তুলে দেয়। ধাতব, কড়ে আঙুলের সমান একটি টিউব।
"স্যার, এটা গাড়ির ভেতরের মেঝে থেকে পাওয়া গিয়েছে। সীটের নিচে পড়েছিল," পুলিশকর্মী বলে।
অংশুমান টিউবটা হাতে নেয়। টিউবের গায়ে বাইরের দিকে কিছু লেখা রয়েছে—ছোট ছোট অক্ষরে রাসায়নিক সংকেতের মতো দেখতে। খুব সম্ভবত কম্পোজিশন লেখা রয়েছে। সে সেটা ভালো করে দেখে।
তিনি দ্রুত ফোন বের করেন। টিউবের ওপরের লেখাগুলোর ছবি তোলেন। তারপর গুগলে ইমেজ সার্চ দেন। ফোনের পর্দায় কয়েক সেকেন্ড লোডিং... তারপর কয়েকটি রেজাল্ট আসে।
অংশুমান প্রথম রেজাল্টে ক্লিক করে। স্ক্রিনে খোলা হয় একটি উইকিপিডিয়া পেজ।
চোখ বড় হয়ে যায় তার।
নোভিচক (Novichok)—একটি নিউরোটক্সিক রাসায়নিক গ্যাস। গ্যাসটি এতই বিষাক্ত যে একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যুর জন্য কয়েক মিলিগ্রামের কমই যথেষ্ট। ২০২০ সালে রুশ বিরোধী নেতা আলেক্সি নাভালনিকে বিষপ্রয়োগে এই গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল। পৃষ্ঠায় আরও লেখা—এটি গন্ধহীন, বর্ণহীন, ত্বকের সংস্পর্শে বা শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে...
অংশুমানে এখন বুঝতে পারছেন। শুধু মৃত্যু নয়, এটা ছিল পরিকল্পিত হত্যা। কেউ এই টিউব গাড়ির ভেতর রেখেছিল। কিন্তু কে? আর কেন?
অংশুমান টিউবটা শক্ত করে মুঠোয় চেপে নেয়। তার মনটা অস্থির হয়ে উঠল। কে তার মাকে হত্যায় জড়িত? কে এই বিষ ব্যবহার করল? কারা পিছনে?
তিনি নাড়া খেয়ে পুলিশ অফিসারের দিকে তাকান। "এই টিউবের কোনো চেইন অব কাস্টডি তৈরি হয়েছে?"
"হ্যাঁ স্যার, আমরা ছবি তুলে রেখেছি, ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্য পাঠানো হবে—"
"আমি এখনই নিয়ে যাচ্ছি," অংশুমান কথা শেষ করে টিউবটি জ্যাকেটের পকেটে ঢুকিয়ে দেন। "একটা ফরেন্সিক ল্যাবে যাচ্ছি। কাউকে কিছু বলবেন না এখন।"
পুলিশকর্মী কিছু বলতে গিয়েও থামে। অংশুমান ঘুরে দাঁড়ান এবং দ্রুত গতিতে তাঁর নিজের গাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করেন। পেছনে লোকজনের ফিসফাস আবার বেড়ে ওঠে—কিন্তু তিনি আর থামেন না।
গাড়িতে বসে ইঞ্জিন স্টার্ট করেন। স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে কিছুক্ষণ স্থির থাকেন। তারপর এক নিঃশ্বাসে গাড়ি ছুটিয়ে দেন ফরেন্সিক ল্যাবের উদ্দেশ্যে।