ছায়ার আড়ালে আগুন-Erotic Thriller [Part-4: অন্তিম যুদ্ধ] - অধ্যায় ৪৫
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৪: অন্তিম যুদ্ধ)
পঞ্চচল্লিশ পরিচ্ছেদ: রুবিনা গাড়ি অ্যাক্সিডেন্টে স্পট ডেড
পরের দিন দুপুর।
অংশুমান থানায় বসে ফাইল দেখছিল। ঘরের ভেতরটা শান্ত। হঠাৎ তার ব্যক্তিগত ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে একটা অচেনা নম্বর। সে ধরল।
“অংশুমানবাবু?” গলার সুরটা উত্তেজিত ও ভয়ার্ত। “আমি পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে বলছি। একটা জরুরি খবর…”
অংশুমানের কলম থেমে গেল। “বলুন।”
“রুবিনা বেগম… উনার গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। বিধানসভা থেকে ফেরার পথে। স্পট ডেড।”
ফোনটা অংশুমানের কানের কাছে ধরাই ছিল। কিন্তু সে কিছুক্ষণ কিছু শুনতে পেল না। ঘরের আওয়াজ যেন দূরে চলে গেল। সে ধীরে ধীরে চেয়ারের পায়ের দিকে তাকাল। তারপর গলার জোর করে বলল,
“কী হয়েছে… আবার বলুন।”
অপর প্রান্ত থেকে লোকটা বিস্তারিত জানাল।
রুবিনা বিধানসভার অধিবেশন শেষে গাড়িতে উঠেছিলেন। ড্রাইভার ছিল পুরনো বিশ্বস্ত লোক। গাড়িটা সিজি রোড ধরে যাচ্ছিল। হঠাৎ সামনের ডান দিকের চাকাটা খুলে যায়। গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তীব্র গতিতে ডিভাইডারে ধাক্কা মারে। ধাক্কার জোরে গাড়িটা দুইবার পাল্টি খায়। ছাদ দিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। রুবিনা ও ড্রাইভার— দুজনেই গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। কোনো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পাওয়া যায়নি।
অংশুমান ফোনটা নামিয়ে রাখল। তার মুখ পাথরের মতো হয়ে গেল। সে উঠে দাঁড়াল। থানার লোকজন তার দিকে তাকিয়েছিল। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস পায়নি।
সে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। রাস্তায় গাড়ির হর্ন, লোকজনের ভিড়— কিছুই তার কানে ঢুকছিল না। মনে শুধু একটা কথা ঘুরছিল— রুবিনা মারা গেছে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে সে দেখল। রাস্তা আটকে গেছে। পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স, সাংবাদিক। ভেঙে যাওয়া গাড়িটা ডিভাইডারের পাশে উল্টে পড়ে আছে। সামনের অংশটা পুরো চ্যাপ্টা। কাচ ভেঙে ছড়িয়ে আছে। রক্ত মাটিতে শুকিয়ে কালো দাগ হয়ে গেছে।
অংশুমান গাড়ি থেকে নামল। তার পা কাঁপছিল না। মুখে কোনো অভিব্যক্তি ছিল না। সে পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে সামনে গেল। একজন অফিসার তাকে চিনতে পেরে কাছে এল।
“বাবু… উনাকে সরিয়ে নিয়ে গেছে। মর্গে।”
অংশুমান মাথা নাড়ল। সে গাড়িটার দিকে তাকিয়ে রইল। ধাতব গন্ধ, পোড়া রাবারের গন্ধ আর রক্তের গন্ধ বাতাসে মিশে ছিল।
সে জানত, রুবিনা আর ফিরবে না। আরিয়ান এখন মাতৃহীন। আর তার নিজের জীবন থেকে একটা বড় অংশ চিরতরে মুছে গেছে।
কিন্তু তার চোখে জল এল না। শুধু একটা ঠান্ডা, শূন্য অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল বুকে।
সে ফোনটা হাতে নিয়ে অন্তরাকে নাম্বার মিলিয়ে কল করল। ফোন বাজতেই অন্তরা ধরল।
“বাবু?”
অংশুমানের গলা শুকনো। “রুবিনা মারা গেছে। অ্যাক্সিডেন্ট। স্পট ডেড।”
লাইনটা চুপ হয়ে গেল। অন্তরা কিছু বলল না। শুধু তার শ্বাসের শব্দ শোনা গেল।
অংশুমান ফোন কেটে দিল। সে গাড়ির ভাঙা দিকে আর একবার তাকাল। তারপর ধীরে ধীরে নিজের গাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল।
মনে মনে একটাই কথা ঘুরছিল—
এখন সবকিছু বদলে গেল।