কাশীপুরের কান্ড - অধ্যায় ২

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74150-post-6241735.html#pid6241735

🕰️ Posted on Thu Jun 18 2026 by ✍️ Toxic boy (Profile)

🏷️ Tags:
📖 303 words / 1 min read

অধ্যায় ২ : কাশীপুরের মানুষজন কাশীপুরে কেউ অসুস্থ হলে প্রথমে ডাক্তার ডাকার কথা খুব কম লোকেরই মাথায় আসত। অধিকাংশ সময় সবাই আগে যেত নকুল কবিরাজের কাছে। গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় তার ছোট্ট টালির ঘর। ঘরের সামনে নিমগাছ। সকালবেলা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষজন লাইন দিয়ে বসে থাকত। কেউ জ্বর নিয়ে এসেছে। কেউ পেটব্যথা। কেউ আবার গরুর অসুখের ওষুধ নিতে এসেছে। নকুল কবিরাজের বয়স প্রায় সত্তর। সাদা ধুতি, মলিন ফতুয়া আর চোখে মোটা কাচের চশমা। কথা কম বলতেন। তবে গ্রামের লোকজনের বিশ্বাস ছিল, অনেক সময় শহরের ডাক্তার যেখানে ব্যর্থ হয়, নকুল কবিরাজ সেখানে কাজ করে দেখান। ⸻ গ্রামের সবচেয়ে সম্মানিত মানুষ অবশ্য ছিলেন হরিপদ মাস্টার। একসময় প্রাইমারি কলেজের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। এখন বয়স আশির কাছাকাছি। হাঁটতে লাঠি লাগে। কিন্তু স্মৃতিশক্তি এখনও টনটনে। চায়ের দোকানের আড্ডায় তিনি বসলে সবাই একটু চুপচাপ হয়ে যেত। তার কথা মন দিয়ে শুনত। কারণ হরিপদ মাস্টারের মুখে গ্রামের পঞ্চাশ-ষাট বছরের ইতিহাস জমা ছিল। ⸻ গ্রামের মাঝখানে একটা ছোট্ট শিবমন্দির। বড় কিছু নয়। সিমেন্টের তৈরি ছোট্ট মন্দির। সামনে বেলগাছ। সন্ধ্যায় পুরোহিত ঘণ্টা বাজালে সেই শব্দ প্রায় পুরো গ্রামে শোনা যেত। প্রতিমা প্রায়ই সন্ধ্যাবেলা সেখানে প্রদীপ দিতে যেতেন। অনেক সময় রতনও মায়ের সঙ্গে যেত। যদিও মন্দিরের চেয়ে তার বেশি আগ্রহ থাকত মন্দিরের সামনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ায়। ⸻ সন্ধ্যা নামার একটা আলাদা রূপ ছিল কাশীপুরে। সূর্য ডুবে গেলে প্রথমে পাখিদের ডাক কমে যেত। তারপর দূরে দূরে রান্নার ধোঁয়া উঠতে দেখা যেত। একটু পরে মন্দিরের ঘণ্টা বাজত। তারপর গ্রামের একে একে ঘরগুলোর আলো জ্বলে উঠত। কোথাও সাদা বাল্ব। কোথাও কেরোসিনের লণ্ঠন। কোথাও আবার দুটোই। রাত আটটার পরেই গ্রাম অনেকটা নিস্তব্ধ হয়ে যেত। শুধু কুকুরের ডাক আর দূরে কোথাও শেয়ালের চিৎকার শোনা যেত মাঝেমধ্যে। ⸻ সেই রাতেও সবকিছু ছিল স্বাভাবিক। রমাপদ খাতা দেখছিলেন। প্রতিমা রান্নাঘরের কাজ গুছোচ্ছিলেন। রতন পড়ার বই খুলে বসেছিল বটে, কিন্তু তার মন ছিল জানালার বাইরের অন্ধকারে। বাইরে কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। দূরে শিবমন্দিরের ঘণ্টার শেষ শব্দটা মিলিয়ে গেল। কাশীপুর তখন ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছে।