মরীচিকা ও মোহময়ী - অধ্যায় ৫৮
নিজের লেখার unbiased রিভিউ করা খুব কঠিন কাজ। রিডার হিসাবে রিভিউ করাও সম্ভব নয় কারণ রিডার গল্পটা পড়ে রিভিউ করে। কিন্তু, লেখক জানে গল্প লেখার সময় তার মাথায় কী চলছিল।
তবু চেষ্টা করছি।
এই গল্পটার মোট তিনটে পার্ট।
অধ্যায় ৮ থেকে ১৭ ফেস্টিভাল আর্ক, অধ্যায় ১৮ থেকে ২৩ সিম্পোজিয়াম আর্ক আর তারপর থেকে এই সিজনের লাস্ট আর্ক শুরু হয়েছে।
তার আগের যে দুটো চ্যাপ্টার আমি লিখেছি, সেদুটোকে ধরছি না কারণ ওগুলো আমি ইতালির কাহিনী, যা আমার নয়, সেইটা শেষ করব বলে লিখেছিলাম। গল্প শুরু হচ্ছে আট নম্বর চ্যাপ্টার থেকে, ইতালির ঘটনার চার-সাড়ে চার বছর পরে,
অয়ন কলেজে ভর্তি হবার চার মাস পরে যখন বিদিশা কলেজে চাকরিতে জয়েন করছে।
আমার মনে হয়েছিল বিদিশার ব্যক্তিত্বময়ী আদর্শবতী চরিত্রের মহিলা শিক্ষিকা হিসেবে একদম আইডিয়াল হবে।
আমি ইচ্ছে করেই টাইম স্কিপ করে গেছি আর চেষ্টা করেছি গল্পটা যতটা সম্ভব নির্মেদ থাকে।
প্রথম আর্কটা মূলত অয়ন-বিদিশা-বিক্রমের ত্রিভুজ নিয়ে। শুধু এই আর্কটা পড়লে রিডারের মনে হবে গল্পটা কেবল এই নিয়েই।
কিন্তু, আমি যখন গল্পটা লিখতে বসি তখন আমি গেম অফ থ্রোনস দ্বারা inspired ছিলাম। আমি ওইধরনের এপিক লিখতে চেয়েছিলাম যেটা একটা বড় জায়গা জুড়ে থাকবে, যেখানে অনেক চরিত্র থাকবে। সেটা আমি ধাপে ধাপে করেছি।
প্রথম আর্কের শেষে অয়ন আর বিদিশার মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়েছে, তারপর সিম্পোজিয়াম আর্কে ওদের আলাদা জীবন দেখিয়েছি। এরপর বর্তমান যে আর্কটা চলছে সেখানে ক্যানভাসটা আরো বাড়িয়েছি। স্বাভাবিকভাবেই প্রতি চ্যাপ্টারেই নতুন নতুন চরিত্রের আগমন ঘটছে।
প্রথম আর্কে আমি অয়ন-বিদিশা-বিক্রম বাদে কলেজে ইচ্ছে করেই আর কোন মেজর চরিত্রে ফোকাস করিনি।
হ্যারি যখন হগওয়ার্টসে প্রথম বছর আসে, সে কী কলেজের সম্বন্ধে সবকিছু জেনে গিয়েছিল ? তাহলে তো চেম্বার অফ সিক্রেটস ঘটতোই না। গল্প যত এগোবে তত আমরা কলেজের গভীরে ঢুকব।
দ্বিতীয় আর্কে আসল চরিত্র হল অয়ন। সে কীভাবে ফাইট ব্যাক করে জীবনে ফিরে আসে এটাই এই আর্কের ফোকাস।
বাস্তব জীবনে, ভালোবাসার মানুষ, যাদের আমরা চোখ বুজে বিশ্বাস করি, তারা বিট্রে করলে আমরা কী ভেঙে পড়ি না ?
বাস্তব জীবন হলে অয়নের এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে অনেক বেশি সময় লাগতো। যেমন বিদিশার লেগেছিল। কিন্তু, গল্পের খাতিরে অয়নকে তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে হয়েছে।
আমারও মনে হয়েছে যে সিম্পোজিয়ামের জায়গায় অন্য কিছু থাকলে বেটার হতো। কিন্তু, সেই সময় বিদিশা কলেজে একেবারেই নতুন ছিল। তার উপর একটা স্ক্যান্ডালে পরে তার মুখ কিছুটা হলেও পুড়েছে। বিদিশাকে তার হারানো জায়গাটা ফিরিয়ে দেওয়া দরকার ছিল। প্লাস, বিক্রমকে unmask করা আর কলেজ পলিটিক্সের introduction যেটা খুবই important, সেটা সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমেই হয়েছে। ওই আর্কেই ডঃ বাগচীর মতো একজন important character এর introduction হয়েছে।
প্রেজেন্ট আর্কটা কলেজ ছাড়িয়ে বাইরের জগতে কী ঘটছে সেটা দেখাচ্ছে আর এটা আপাতত হচ্ছে অরুণের মাধ্যমে। আমি মনে করি না যে অরুণকে আনতে দেরি হয়েছে। অরুণের জগতটা অনেক বড় আর সেখানে চরিত্রের সংখ্যা প্রচুর। আরো আগে অরুণকে আনলে গল্পে জটিলতা বাড়ত।
ব্যক্তিগত ভাবে আমি অবাক হয়েছি, রিডাররা 'মরীচিকা' আর 'মোহময়ী' এই দুটো শব্দের তাৎপর্য নোটিশ না করায়। আমি ইচ্ছে করেই বারবার করে মোহময়ী উল্লেখ করেছিলাম।
আরেকটা বিষয় হল, সূক্ষ্ম character dynamics। এটা কেউ নোটিশ করেনি। যেমন, বিদিশা বারবার মনে করছেন ডঃ বাগচী সিম্পোজিয়াম ভেস্তে দিতে চাইছিলেন, বাস্তবে এর পিছনে ওনার কোন হাতই নেই।