অঘটনঘটন পটিয়সী (নতুন আপডেট ৩৭) - অধ্যায় ২৩৮

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-52771-post-6289771.html#pid6289771

🕰️ Posted on Mon Aug 17 2026 by ✍️ কাদের (Profile)

🏷️ Tags:
📖 969 words / 4 min read

ছ সিনথিয়া রুম থেকে বের হবার পর মাহফুজ একটু বাথরুমে ঢুকে পানি ঢেলে বাড়া শান্ত করতে চায়। তবে কতটা শান্ত করতে পারে বুঝে না। সিনথিয়ার এই টিজ গুলো ওর ভিতর আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সিনথিয়া  নিজেও জানে। আজকে রাতে একটা ঝড় যাবে। বাড়ার এই আগুন অবস্থার শাস্তি কার না কারো নিতে হবে। এই রাতে সিনথিয়া কোথায় পালায় দেখবে মাহফুজ। নুসাইবা আর আরশাদের তাড়া আছে তাড়াতাড়ি চলে যাবা ওরা। তবে আগে ডেজার্ট খাচ্ছে। সাবরিনা মা কে সাহায্য করছে টেবিল গোছাতে। মাহফুজ বাটিতে আইসক্রিম নিয়ে এক কোণায় চুপচাপ দাঁড়ায়। ওর ভিতরে ভিতরে বাড়াটা ফুলে আছে। কেউ যেন না দেখে এমন এংগেল করে দাঁড়িয়ে আছে। সিনথিয়া নিজেও আইসক্রিম নিয়ে ওর পাশে এসে দাঁড়ায়। ফিস ফিস করে বলে হ্যালো হিরো, কেমন লাগল আমার শাস্তি। মাহফুজ বলে দাড়াও একবার পেয়ে নেই তোমাকে তাহলে শাস্তি কাকে বলে দেখিয়ে দিব। খিল খিল করে হেসে উঠে সিনথিয়া। ওকে, লেটস সি কে কাকে এইবার আবার শাস্তি দেয়। সিনথিয়ার আবার টিজ করে উঠে। দেখ দেখ নুসাইবা ফুফুর পাছা নিয়ে তুমি কথা বল না। দেখ সোফায় বসে আছে আর কিভাবে পাছাটা সোফায় ছড়িয়ে পড়েছে। মাহফুজ দাতে দাত কাটে। সিনথিয়ার কথা সত্য তবে সিনথিয়া জানে না এই পাছার প্রতিটা ইঞ্চি মাহফুজ চেনে। তাই সিনথিয়ার কথা আর বেশি ইফেক্ট পরে ওর উপর। সাবরিনার সিল্কের শার্টে টিউব লাইটের আলোতে আর মোহনীয় মনে হয়। সিনথিয়া আবার টিজ করে দেখ দেখ, আপুর করপোরেট লুকে কেমন হট লাগছে। মনে হচ্ছে না একদম পরী পরী। আপু যদি কখনো তোমার ভিতরের রডটা দেখত তাহলে কি করত বল তো? আপুর মত কোল্ড বিচ মনে হয় না তোমার রডে বসত। মাহফুজ আবার দাতে দাত চাপে। জানে ওকে টিজ করার জন্য এইসব বলছে সিনথিয়া এবং সেগুলো কাজ করছে ওর উপর। তব সিনথিয়া এও জানে না ওর রডের উপর অনেকবার বসা হয়ে গেছে সাবরিনার। সাবরিনার ভিতরের ইর্ষাটাও জানে না সিনথিয়া। জানে না ওর কোল্ড বিচ বড় বোনের ভিতরে একটা উষ্ণ ধারা তৈরি করে ফেলেছে মাহফুজ। না জানুক তবু এইভাবে ওকে সবার সামনে এইভাবে টিজ করছে সেইটা মাহফুজের জেদ বাড়ায়। সাম ওয়ান হ্যাজ টু পে। নুসাইবা আরশাদ তাড়াতাড়ি বিদায় নেয়। সাবরিনা যাবে যাবে করে। সাদমান বলে গাড়িতে গ্যাস ভরা দরকার। সাফিনাদের বাসার কাছে একটা গ্যাস পাম্প আছে লাইন কম হয়। ঐখানে ও আগে একা যাচ্ছে। লাইনের শুরুর দিকে আসলে ও কল দিবে তখন নিচে নেমে আসলেই হবে। বাকিরা সবাই চলে যায়। বাসায় খালি দুই বোন, সাফিনা, মিজবাহ আর মাহফুজ। দুই বোন মায়ের সাথে কথা বলতে থাকে। মাহফুজ একটু দূরে বসে মোবাইলে বিভিন্ন জিনিস চেক করে। মিজবাহ আগে আগে ঘুমাতে চলে গেছে। মাহফুজ মোবাইল চালাতে চালাতে লক্ষ্য করে সাবরিনা ওকে আড়চোখে দেখছে। মাহফুজের একটু চিন্তা হয়। সাবরিনা যদি ওর ভিতরের আবেগ লুকাতে না পারে তাহলে কার না কার চোখে পড়ে যাবার চিন্তা আছে। সিনথিয়া অল্প কয়েকদিন পর চলে যাবে। হয়ত এই কয়দিন ইজিলি আড়ালে থাকা যাবে সাবরিনার কিন্তু পরে যে কার চোখে পড়তে পারে এটা। এই জিনিস ডিল করা দরকার। মাহফুজ মনে মনে ঠিক করে। সিনথিয়ার মাথায় অনেক কিছু ঘুরছে। নতুন বিয়ে, সংসার, তিন চার দিন পর ইংল্যান্ড ফেরত গেলে নতুন সেমিস্টার, একটু আগে মাহফুজের সাথে করা দুষ্টমি কিন্তু সবকিছুর চেয়ে বেশি যেটা ওর মাথায় ঘুরছে সেটা হলো ওর মা সাফিনা করিম। নুসাইবা ফুফুর সন্ধ্যার সময় কিচেনে বলা ডিপ্রেশনের কথার পর ওর মা যখন স্বীকার করল তার পর থেকে ওর মাথায় ঘুরছে এটা। সাফিনা করিম ওর জীবনে কতটা গূরুত্বপূর্ণ সেটা সিনথিয়া সবচেয়ে বেশি টের পেয়েছে ইংল্যান্ডে পড়তে গিয়ে। ওর মা কে এতটা মিস করবে কল্পনা করে নি সিনথিয়া। সাবরিনা সবসময় মায়ের বাধ্য মেয়ে তাই এবং এই জন্য ওর মা সব সময় সাবরিনার প্রশংসা করত। এই জন্য বড় আপুর প্রতি এক ধরণের ইর্ষা ছিল এবং মায়ের প্রতি অভিযোগ। আবার যত নিয়ম ভাংগার কাজ আছে টিএনএজ থেকে সব করে এসেছে সিনথিয়া। পরিবারের বিদ্রোহী সদস্য। বাবা যত রাগ করুক বাবা কে রাজি করানো সিনথিয়ার জন্য দুই আংগুলের খেল। দুই মেয়ের প্রতি অন্ধ মিজবাহ করিম। তবে মা ভিন্ন জিনিস। সিনথিয়ার সব ফন্দি ফিকির, অনুনয় বিনয়ের পিছনের কারণ যদি কেউ এক নিমিষে বুঝতে পারত সেটা হলো মা। এই পরিবারের মেয়েরা সব সময় ব্যক্তিত্ববান তবে তাদের মাঝেও সিনথিয়া জানে ওর মা সাফিনা করিম অনন্য। নুসাইবার আছে জেদ, সাবরিনার শীতল ব্যক্তিত্ব, সিনথিয়ার বিদ্রোহী স্বত্ত্বা। এই সব গুলো তাদের ব্যক্তিত্ব কে স্ট্রং করেছে তবে সাফিনা ভিন্ন। সাফিনার যখন কোন মতামত প্রকাশ করে তখন সেই মতামত জয়ী করার জন্য নুসাইবার মত  জেদ ধরবে না, সাবরিনার মত সাফিনা ঠিক শীতল ব্যক্তিত্বের না তবে সাফিনা যখন একের পর এক প্রশ্ন করে কিছু জানার জন্য বা চশমার ফাক দিয়ে একটা বাকা চাহনি দেয় সেই প্রশ্ন বা চাহনি যে কার শিড়দাড়ায় একটা শীতল অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে যথেষ্ট। সাফিনা যদি কোন নিয়ম ভাংগতে চান তবে সিনথিয়ার মত হইহল্লা করে বিদ্রোহ করেন না বরং সাফিনা খুটিয়ে খুটিয়ে নিয়মের ফাকফোকড় বের করে সেই নিয়ম কে কিভাবে এড়িয়ে যেতে হয় সেটাই দেখিয়ে দেন। একবার ওর বাবা বলেছিল এই বাড়িতে সব মেয়েদের পার্সনালিটি এক করলে বুঝি তার বউয়ের পার্সনালিটি হবে। সাফিনা করিম যে এই বাড়ির সবচেয়ে সুন্দর আভিজাত্যপূর্ণ চেহারার অধিকারি সেটা নিয়ে কার প্রশ্ন নেই। এক নিমিষে সাফিনা কে অনেক সময় নুসাইবার থেকে ছোট আর সাবরিনা আর ওর বড় বোন বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। তবে বুদ্ধিদীপ্ত ব্যক্তিত্ব বলতে যা বুঝায় তার উদাহারণ সাফিনা করিম। শিক্ষিকা, বই পড়েন, মুভি দেখতে পছন্দ করেন। আবার শুধুমাত্র পড়ুয়া জ্ঞানী না সাফিনা করিম দরকার হলে পরিবারের হাল ধরতে পারেন। সিনথিয়া ছোট ছিল যখন ওর দাদার ক্যান্সার ধরা পড়ল। ওর চাচা ফুফু আর বাবা ভেংগে পড়লো। সেই সময় কিভাবে সবাই কে সামলে দাদার চিকিতসার সময়টুকু পুরো পরিবার কে মানসিক সাপোর্ট দেওয়া থেকে দাদা কে সেবা শুশ্রেষা করা সব করেছিলেন এই সাফিনা করিম। এই গল্প অনেকবার শুনেছে সিনথিয়া। তার মায়ের মানসিক জোরটুকু টের পাওয়া যায় এইসব ঘটনায়। কিন্তু সেই বুদ্ধিদীপ্ত মানসিক ভাবে শক্ত মায়ের ডিপ্রেশন সিনথিয়ার ভিতর একদম উলট পালট করে দিল। মায়ের সাথে প্রথম যৌবনের বিদ্রোহে তৈরি হওয়া দূরত্বটা যে কিছু না সেটা টের পেয়ে গিয়েছিল বিলেত গিয়ে। এখন আবার বিলেত যাবার আগে মায়ের এই ডিপ্রেশন শুনে বড় একটা দোমনায় পড়ে গেছে। এই জন্য মায়ের সাথে কথা বলা দরকার ওর। সারা জীবন এই পরিবার কে দিয়ে গেছে ওর মা। এখন তার দরকারের সময় কি বিলেত চলে যাবে ও পড়াশুনার জন্য? নাকি গ্যাপ নিয়ে এক বছর অন্তত মায়ের সুবিধার জন্য।