কাজলদীঘি, শ্মশান ও পীরসাহেবের থান by Mamun Jafran - অধ্যায় ৩২

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-11060-post-747385.html#pid747385

🕰️ Posted on Sun Aug 11 2019 by ✍️ sagor69 (Profile)

🏷️ Tags: None
📖 1893 words / 8 min read

পার্টঃঃ৩০ কোথায় আবার যাবে আমার সঙ্গে কিছুক্ষণ আগে ম্যাডামের কথা হয়েছে। ওরা গাড়ি করে কোথায় যাচ্ছে মনে হয়। কাছাকাছি দীঘা আছে ওরা হয়তো দীঘা গেছে। দ্যাটস রাইট এটা ঠিক বলেছো। তুমি পাত্তা লাগাও। টাকার জন্য চিন্তা করোনা। যা লাগে আমি দেবো। যদি বোঝো এখুনি একটা গাড়ি ভাড়া করে চলে যাও। ঠিক আছে। রবিনকে পেলে। না। ওরা কিন্তু রবিনকে নিয়ে যায় নি। ম্যাডাম গাড়ি চালাচ্ছে। ও। রবিনের বাড়ি তোমাদের পাশের গ্রামে। একবার পাত্তা লাগাও। ওকে আমার খুব দরকার। অনিটা খুব ধুরন্ধর ছেলে, মিত্রাকে দিয়ে যদি কিছু সই সাবুদ করিয়ে নেয় সব কেঁচে যাবে। মিত্রা ফিক করে হেসে ফেললো। আমি ওর মুখ টিপে ধরলাম। শোনো তুমি কনফার্ম খবরগুলো নিয়ে আজ কোলকাতায় চলে এসো। না। এখানে একটা কাজ পরে গেছে। এমা, ম্যাডামের সঙ্গে আমার কথা হল আমি সব বললাম। উনিতো ভয়ে কাবু। আরে কিছু হোক ছাই না হোক সম্মানের একটা ব্যাপার আছেতো। ওই রকম একটা ফালতু ছেলের সঙ্গে ঢলানি। এই ফাঁকে আমি আমার কাজ গুছিয়ে নিলাম। বাধ্য হয়ে উনি সব মেনে নিলেন। আমি অনির জায়গায় তোমায় বসাবো। তুমিযে কি উপকার করলে। আরে হুঁ হাঁ করছো কেনো ? দিবাকর আমার দিকে তাকালো। আমি ইশারা করলাম। কথা তাড়াতাড়ি শেষ করতে। আপনার কথা শুনছি। ঠিক আছে কিছুক্ষণ পর আপনাকে ফোন করছি। এনি নিউজ। না। রাখছি। সঞ্জয় ফোনটা ছিনিয়ে নিয়ে কেটে দিয়ে রেকর্ডিংটা সেভ করলো। আমি বললাম লাস্ট রেকর্ডিংটা আমার মোবাইলে ট্রান্সফার কর। মিত্রা মুখ নীচু করে বসে আছে। এবার বল দিবাকর। তোর কিছু বলার আছে, দিবাকর হাঁউ মাউ করে কেঁদে উঠলো। চিকনা ওকে প্রায় মেরেই দিচ্ছিলো, সঞ্জয় ধরে ফেললো। বল। তোর যদি কিছু বলার থাকে। দিবাকর আমার পা জড়িয়ে ধরলো, আমায় বাঁচা অনি। যে বাসুকে আমি এইকদিনে রাগতে দেখিনি। সব সময় আমার পাশে ছায়ার মতো থেকেছে। হঠাত ও দিবাকরের গালে একটা থাপ্পর মেরে বসলো। বাসুর এই ব্যাবহারে ঘর ভর্তিলোক অবাক হয়ে গেলো। চিকনা চেঁচিয়ে উঠলো। তোর ওই স্যাকরার ঠুকঠাকে হবেনা। আজই ওর ব্যাবস্থা করে দিচ্ছি। এতোক্ষণ তুই মিত্থ্যাকথা বলছিলি কেনো। তুই ম্যাডামকে কতটুকু চিনিস। বাসু বললো। আমি ওদের দিকে তাকালাম। ঘরের সব হো হো করে হাঁসছে। অনাদি একে একে সবার সঙ্গে আমার আলাপ করিয়ে দিলো। ওদের লোকাল কমিটির ভদ্রলোক বললেন, আপনার কথা অনেক শুনেছি আজ চাক্ষুষ দেখলাম। আমি হাতজোড় করে নমস্কার করলাম। আমার দেখাদেখি মিত্রাও নমস্কার করলো। সত্যি আপনার বুদ্ধির প্রশংসা করতে হয়। অনাদির কাছে আপনার সমস্ত ঘটনা শুনে আমি থ। আমি হাসতে হাসতে বললাম, পাঁচ বছর পর নিজের গ্রামে এসেছি। রথেরমেলা গত দশবছর দেখিনি। ভেবেছিলাম কাল রথ টানবো। হল না। এই মুহূর্তে আমি খুব ইমোশোন্য়াল হয়ে পরলাম। নানা চিন্তা মাথায় বাসা বাঁধছে। মিত্রার দিকে তাকালাম। ও আমার দিকে ফ্য়াল ফ্য়াল করে তাকিয়ে আছে। দিবাকার আমার মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ মুছছে। ওকে দেখে মায়া হচ্ছে আবার রাগও হচ্ছে। না বুজে ও কি করলো। মানুষের লোভ মানুষকে কত নিচে নিয়ে য়েতে পারে দিবাকর তার একটা উজ্জ্বল প্রমাণ। মনে মনে ঠিক করলাম দিবাকরকে একটা সুযোগ দেবো। দেখিনা যদি শুধরে যায়। স্বগোতোক্তির সুরে ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বললাম, শুনেছি আপনি যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন ওইখানে আমি ভূমিষ্ঠ হয়েছিলাম। ভদ্রলোক অপ্রস্তুত হয়ে পরলেন, কোথায় দাঁড়াবেন ঠিক করতে পারছে না। কটা বাজে। এগারোটা পাঁচ। দিবাকরের দিকে তাকালাম, তুই চুপচাপ থাকবি না মুখ-হাত-পা বেঁধে ওখানে ফেলে রাখবো। দিবাকর কাঁদো কাঁদো মুখ করে বললো, আমি তোর পায়ের কাছে বসবো। নীপা আমার পাশে এসে বসলো। ও আমার হাতটা চেপেধরে আছে। ও এই অনিদাকে দেখে নি। মুখ চোখ শুকিয়ে কাঠ। ও ঠিক ঠাহর করতে পারছে না, ব্যাপারটা কি ঘটছে। মিত্রার দিকে তাকালাম, এবার তোর খেলা শুরু কর। ঘরে পিন পরলে আওয়াজ হবে না। সবাইকে বললাম চুপ চাপ থাকবেন। কোন কথা বলবেন না। মিত্রা যা যা বলেছি খুব ঠান্ডা মাথায়, কখনই উত্তেজিত হবি না। মনে রাখবি এ্যাডমিনিস্ট্রেসনের কাছে মা-বাবা-ভাই-বোন-আত্মীয়স্বজন বলে কিছু নেই। ব্যাপারটা এইরকম, আই এম কোরাপ্ট বাট গুড এ্যাডমিনিস্ট্রেটর। মিত্রার চোখে মুখের চেহারা বদলে গেলো। এটা সবাই লক্ষ করলো। দিবাকর কোনো আওয়াজ করবি না, যদি বাঁচতে চাস। তোর মোবাইলটা কোথায় ? চিকনা এগিয়ে দিলো। দিবাকরের দিকে তাকিয়ে বললাম, ইশারায় কাজ করবি। তুই যা বলবি তাই করবো। ঠিক আছে। মিত্রা ডায়াল করতেই ও প্রান্ত থেকে সনাতনবাবুর গলা ভেসে এলো। হ্যাঁ ম্যাডাম। সবাই এসেছেন। হ্যাঁ। ম্যাডাম। নাম বলুন কে কে এসেছেন। সনাতনবাবু ওপ্রান্ত থেকে সবার নাম বললেন। সবার নাম নোটকরে সই করিয়ে নেবেন। ঠিকআছে ম্যাডাম। সুনিতবাবু। হ্যাঁ ম্যাডাম। কাগজের খবর কি ? সব ঠিক আছে। কিরকম। আপনি যেভাবে ইনস্ট্রাকসন দিয়ে গেছিলেন সেই ভাবে চলছে। তাই নাকি ? আমার কাছে যে অন্য খবর আছে। না ম্যাডাম একটু ঝামেলা হয়েছিলো অমিতাভবাবু আর মল্লিকবাবুর সঙ্গে। কি নিয়ে ? আপনি আস্তে বারন করেছিলেন, আমি সেটা বলতেই বললো কাগজ দেখি। আপনি কি বললেন ? কাগজ দেখাতে পারি নি, আপনি মৌখিক ভাবে বলেছিলেন আমায়। সনাতনবাবু কি বললেন ? উনি বললেন আপনি যা ভাল বুঝবেন করবেন, তারপর ম্যাডাম এলে ডিসিসন হবে। আমার কাছে সেরকম কোনো খবর নেই। বরং কাগজের বাইরের খবর নিয়ে আপনারা বেশি মাতামাতি করেছেন। না ম্যাডাম। সময় মতো কাগজ বেরোচ্ছে ? হ্যাঁ ম্যাডাম। গত কাল ছাড়া প্রতিদিন কাগজ সেকেন্ড ট্রেন ধরেছে। কে বলেছে ম্যাডাম আপনি একবার তার নাম বলুন। সনাতনবাবু। হ্যাঁ ম্যাডাম, সুনিতবাবু যা বলছেন তা ঠিক নয় । গতকাল এক মাত্র ঠিক টাইমে কাগজ গেছে। আর যায় নি। আপনি কি করছিলেন। এ্যাকচুয়েলি ম্যাডাম...। আপনাকে কাজের জন্য পয়সা দেওয়া হয়। মিত্রা ঝাঁঝিয়ে উঠলো। হ্যাঁ ম্যাডাম। আপনাকে যে পাওয়ার দিয়ে এসেছিলাম তা ইউটিলাইজ করেছেন। এরা ঠিক....। সুনিতবাবু। হ্যাঁ ম্যাডাম। কজনকে চাকরির লোভ দেখিয়েছেন ? একজনকেও না। আমি দিবাকরের ফোন থেকে রিং করলাম। সুনিতদার ফোন বেজে উঠেছে। ম্যাডাম আমার একটা ফোন এসেছে। মিত্রা নম্বরটা বললো, এই নাম্বার থেকে ? চুপচাপ। কি সুনিতবাবু চুপচাপ কেনো, নম্বরটা ঠিক বললাম না ভুল বললাম। কথা বলছেননা কেনো। হ্যাঁ ম্যাডাম। আপনার মামা ব্যাপারগুলো জানেন। না। ওকে ফোন করুন, আর বলুন আমাকে এখুনি ফোন করতে। শুনুন আপনি আমার টেলি-কনফারেন্স শেষ হলে অফিস থেকে বেরিয়ে যাবেন। আগামী শুক্রবার আমার ঘরে মিটিং। আপনি উপস্থিত থাকবেন। সেদিন যা বলার বলবো। এদের সামনে আর বললাম না। ম্যাডাম, আমার কিছু কথা বলার ছিলো। শুক্রবার বেলা এগারোটা। চম্পকবাবু। হ্যাঁ ম্যাডাম। এমাসের টার্গেট কতো ছিলো ? ১৫ কোটি। কত ফুলফিল হয়েছে। ১ কোটি। বাকিটা। হয়ে যাবে। গাছ থেকে পরবে ? চুপচাপ। কি হলো চুপ করে আছেন কেনো। না ম্যাডাম, বাজারের অবস্থা....। অন্য হাউস পাচ্ছে কি করে। আমার কাগজের হাল কি এতই খারাপ নাকি। না ম্যাডাম, নিউজ কোয়ালিটি....। সুনিতবাবু। ম্যাডাম। চম্পকবাবু কি বলছেন। ম্যাডাম। মানে আমি.....। চম্পকবাবু। হ্যাঁ ম্যাডাম। কত টাকা মাইনে পান। চুপচাপ। যদি কাল আপনাকে দুর করে দিই। ওই মাইনে কলকাতার কোনো হাউস আপনাকে দেবে। আপনিও শুক্রবার অফিসে এসে দেখা করবেন। সমস্ত ডকুমেন্টস নিয়ে। আচ্ছা ম্যাডাম। কিংশুকবাবু। হ্যাঁ ম্যাডাম। আপনাকে যা দায়িত্ব দিয়ে এসেছিলাম তা পালন করেছেন, না সনাতনবাবুর মত অবস্থা। চুপচাপ। বুঝেছি। চম্পকবাবু আপনার দায়িত্ব গুলো কিংশুকবাবুকে বুঝিয়ে দিন। ঠিক আছে ম্যাডাম। সনাতানবাবু। বলুন ম্যাডাম। সার্কুলেশনের ভদ্রলোক এসেছেন। হ্যাঁ ম্যাডাম আমি এসেছি। গত ১০ দিনে কাগজের সার্কুলেসন ১ লাখ পরেগেছে কেনো। না মানে। দেরি করে বেরিয়েছে এই কারন দেখাবেন না, সব বিটে কাগজ ঠিক সময় পৌঁছই নি। না ঠিক তা নয়। প্রেসে একটু প্রবলেম ছিলো। আমি ১০ দিন অফিসে যাই নি। এতো দেখছি চারিদিকে খালি প্রবলেম আর প্রবলেম। অতীশবাবু আছেন ওখানে। হ্যাঁ ম্যাডাম। কি অতিশবাবু সাপের পাঁচ পা দেখেছেন। চুপচাপ। সুনিতবাবু। বলুন ম্যাডাম। দিবাকর মন্ডলকে চেনেন। দিবাকর মন্ডল.....! অতিশবাবুর দিকে তাকাচ্ছেন তাইতো। চিনতে পারছেন না। একটু আগে আপনাকে ফোন করলো। না ম্যাডাম ওতো ফোন করে নি। এইতো এখুনি বললেন ওকে চিনিনা। না মানে। আপনার গলার রেকর্ডিং শুনবেন। না মানে.....। ত ত করছেন কেনো। চুপচাপ। পয়সা দিয়ে আমি গরু পুশবো ছাগল নয় এটা মনে রাখবেন। আমাকে নিয়ে হাউসে অনেক আলোচনা হচ্ছে। এটা আমার কানে এসেছে। একটা কথা মনে রাখবেন, আমার অনেক পয়সা আমার পক্ষে দু’দশটা কেপ্ট পোষা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। এটা বড়লোক মানুষদের খেয়াল। আপনার মামাকে আমাকে ফোন করতে বলুন। সনাতনবাবু। বলুন ম্যাডাম। ওখানে আর যারা আছেন, তাদের শুক্রবার আসতে বলুন। আমার কথা বলতে ভাল লাগছে না। আপনারা এতটা নীচে নেমে গেছেন। আর শুনুন, আমি ইসমাইলকে বলে দিচ্ছি, গাড়িটা অমিতাভদার বাড়িতে পাঠিয়ে দিন। আজ থেকে কাগজের দায়িত্ব অমিতাভদার হাতে থাকবে। আমি কলকাতা না যাওয়া পর্যন্ত। ঠিক আছে। আর আপনারা সবাই শুনে নিন, অনি আপনাদের অনেক ক্ষতি করেছে। তাই না। ঠিক বলেছেন ম্যাডাম। আমি ওকে পানিশমেন্ট দিয়েছি। এটা ভাল কাজ করেছেন ম্যাডাম। আমরাই বা শুধু ভুগবো কেনো। ওর জন্য জুনিয়র ছেলেরাও আমাদের কথা শুনতে চাইছে না। ঠিক বলেছেন। আপনারা না এক একজন দিকপাল সাংবাদিক। এ্যাডমেনেজার, সিইও, এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজের, আরো কত কি। সব গালভরা নাম তাই না। চুপচাপ। আপনাদের জ্ঞাতার্থে একটা কথা জানিয়ে রাখি অনি বর্তমানে এই কাগজের ২০ পার্সেন্ট শেয়ার হোল্ড করছে। দু’এক দিনের মধ্যেই নোটিস বোর্ডে নোটিশ পরে যাবে। যাকে যা দায়িত্ব দিলাম সেই দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করুন। শুক্রবার ১১টার সময় দেখা হবে। সবাই চুপচাপ। আমি লাইনটা কেটে দিয়ে সেভ করলাম। মিত্রা মাথা নীচু করে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। আমি সবাইকে ইশারায় বাইরে বেরিয়ে যেতে বললাম। সবাই চলে গেলো। নীপা বসেছিলো। আমি বললাম তুমি একটু গরম দুধ নিয়ে এসো। আর ওদের একটু চা-এর ব্যাবস্থা করো। নীপা ছুটে বেরিয়ে গেলো। মিত্রা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। কাঁদিস না। এতো ইমোশন্যাল হলে ব্যাবসা চালাবি কি করে ? আমি আর পারছিনা বুবুন। তোকে পারতেই হবে। ও আমার ঘাড় থেকে মাথা তুলছে না। এই দেখো। এখনো কত কাজ বাকি আছে, দাদাকে ফোন করতে হবে। কাগজটা বার করতে হবেতো। তুই কর। নীপা ঘরে ঢুকলো। কি বোকা বোকা কথা বলছিস। চোখখোল, ওই দেখ নীপা তোকে দেখে হাসছে। মিত্রা আমার ঘার থেকে মাথা তুললো। নীপার দিকে তাকালো। নীপা গরম দুধ নিয়ে এসেছে। নে এটা খেয়ে নে, দেখবি ভাল লাগবে। তুইখা। ওরা সবাই কোথায় গেলো! আমরা প্রেমকরবো, সবাই দেখবে, এটা হয়। ধ্যাত। তুই না। নীপা হাসছে। মুখপুরী, তুই হাসছিস কেনো। নীপা মিত্রার কোলে মাথা দিলো। তোর আবার কি হলো। আমাকে তোমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ো না, আমি তোমার বাড়িতে রান্নার কাজ করবো। কি পাগলের মতো কথা বলছিস। ওঠ। তোকে তোর অনিদার মতো হতে হবে। আমি পারবো না মিত্রাদি। পারতেই হবে। নে ফোন কর দাদাকে। আমি বললাম। কি বলবো। স্পিরিটটা মাঝে মাঝে হারিয়ে ফেলিস না। দে । আমি আমার ফোন থেকে ডায়াল করেই ওর হাতে দিলাম। হ্যালো। কিরে তুই কেমন ছেলে একটা ফোন করলি না কালকে। বড়মাকে ভুলে গেছিস। আমি মিত্রা বড়মা। তোর গলাটা এরকম কেনো ! কিছু হয়েছে ? না। অনি তোকে কিছু বলেছে ? না। ওই মর্কটটা কোথায় রে। দেতো কানটা মুলে। দেবো। না থাক। ওর অনেক চাপ । বুঝি, কিন্তু মন মানে না। সত্যি বড়মা, গিয়ে তোমাকে সব বলবো। কেনোরে, আবার কি হলো। সে অনেক কথা। ওর কাকার শরীর ভাল আছেতো। হ্যাঁ। ওইনে তোর দাদা চেঁচাচ্ছে, কে ফোন করল ? সত্যি কি মিনষেরে বাবা, একটুও সহ্য হয় না। মিত্রা হো হো করে হেসে ফেললো। হাসিস না হাসিস না। তিরিশ বছর ঘর করা হয়ে গেলো, হারে হারে চিনেছি। দাদাকে দাও। ধর। ওকি আমার সঙ্গে কথা বলবেনা বলে প্রতিজ্ঞা করেছে। আমার সামনে বসে আছে। ওর গলাটা একটু শোনা না। তোমাকে পরে দিচ্ছি। আচ্ছা। হ্যালো। দাদা আমি মিত্রা। হ্যাঁ বলো মা। তোমরা কেমন আছ। ভালনেই। কেনো। সে অনেক কথা, আপনাকে যেজন্য ফোন করছি। আগে বলো ওখানকার সবাই ভালোতো। হ্যাঁ এখানকার সবাই ভালোআছে, আমরাও ভালোআছি। বলো কি বলছিলে। আজ থেকে আপনি অফিসে যান। আমি ইসমাইলকে বলে দিয়েছি। ও আপনাকে মল্লিকদাকে নিয়ে যাবে। আর যাদের যাদের আপনার দরকার তাদের তাদের আপনি ডেকেনিন। শুক্রবার সকালে আমি আর অনি কলকাতা যাবো। কিছু একটা গন্ডগোল হয়েছে মনে হচ্ছে। মিথ্যেকথা আপনাকে বলবোনা। হয়েছে। কি হয়েছে বলো ? আপনি অফিসে গেলেই সব বুঝতে পারবেন। বাকিটা পরে ফোন করে আপনাকে বলবো। ঠিক আছে। ওখানে কিছু হয়েছে ? না। সত্যি কথা বলছো। হ্যাঁ। নাও ছোটর সঙ্গে কথা বলো। কিরে কোমন আছিস। ভালো। তুমি কোমন আছ। ভলো, ওই ছাগলটা কোথায় ? আমার দিকে জুল জুল করে চেয়ে আছে। দেতো ওকে। ধরো। মিত্রাকে ইশারা করে বলে দিলাম ইসমাইলকে ফোন কর। মিত্রা ইসমাইলকে ফোন করছে। বলো। কিরে ছোটমা বড়মাকে ভুলে গেলি ? কি করে ভুলবো। তাহলে ফোন করিস নি কেনো ? সব গিয়ে বলবো, ফোনে এতোকথা বলা যাবে না। খারাপ না ভালো। খারাপ ভালো মিশিয়ে। কবে আসছিস। শুক্রবার রাতে তোমাদের সঙ্গে দেখা হবে। কেনোরে। আজ রাতেই মল্লিকদার কাছ থেকে সব শুনতে পাবে। ধর দিদির সঙ্গে কথা বল। কিরে। তুমি রাগ করোনা। তোমার অনি এখন একটা লিডিং কাগজ কোম্পানীর মালিক, এটা বোঝোতো। সেই জন্য বড়মাকে ভুলেগেছিস। তাহলে ওই বাড়ি যাওয়া বন্ধ করেদেবো।